প্রচলিত গল্পে খনা ছিলেন লঙ্কাদ্বীপের রাজকুমারী। মতান্তরে রাক্ষসকবলিত কোনো এক রাজ্যের অনিন্দ্যসুন্দর রাজকুমারীর নাম ছিল লীলাবতী যিনি পরে খনা নামে পরিচিত হন। খনা অর্থ বোবা এবং জিহ্বা কর্তনের পর নামটি প্রতিষ্ঠা পায়। কথিত আছে, জ্যোতিষশাস্ত্রে অগাধ জ্ঞানের ফলে খনা প্রায়ই রাজসভাতে আমন্ত্রিত হতেন। ফলে প্রতিহিংসাপরায়ণ শ্বশুর বরাহ মিহির ছেলে মিহিরকে লীলাবতীর জিহ্বা কাটার নির্দেশ দেন। বাবার নির্দেশে মিহির খনার জিহ্বা কর্তন করেন। তবে গল্পমতে কথিত রাজকন্যা স্বামীর কাছে অনুরোধ করেন যে, জিহ্বা কর্তনের আগে কিছু বলতে চান। স্বামী অনুমতি দেন। এ সময় খনা আবাদ, বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, যাত্রা, গবাদি, শস্যাদি, ফলাদি, গ্রহ-নক্ষত্রাদি সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত বচন দেন যা পরে খনার বচন নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়। খনার বচন সবচেয়ে বেশি প্রচলিত কৃষক সামজে; যাদের কোনো লিখিত ভাষা নেই। মুখে মুখে প্রচলিত এসব ভাষা যুগ যুগ ধরে তাদের কৃষিকাজ এবং জীবনাচারে প্রভাবিত হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে সোজা চোখে না দেখলেও খনার বচন তার অবশ্যম্ভাব্যতা থেকে কক্ষচ্যুত হয়নি। বরং গ্রামের কৃষকরা বিজ্ঞানের ভাষার চেয়ে প্রবাদ-প্রবচনে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তবে অনেক বিজ্ঞজন খনার বচনকে আধুনিক বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করতে গিয়ে প্রবচনগুলো খনার বিজ্ঞান হিসেবে অভিজ্ঞান করেন। বচনগুলো অষ্টম অথবা নবম শতাব্দীতে রচিত। তবে আজো তা নির্ভুল ও সূক্ষ্মদৃষ্টিসম্পন্ন নীতিবাক্য হিসেবেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। যেখানে ঋতুভেদে শস্য উৎপাদন, আবহাওয়ার উপলব্ধি সন্নিবেশিত হয়েছে এবং মাঝে মাঝে ভবিতব্য নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে চলেছে।
‘যদি বর্ষে আগনে/রাজা যায় মাগনে/ যদি বর্র্ষে পুষে/ কড়ি হয় তুষে/যদি বর্ষে মাঘের শেষ/ধন্য রাজা পুণ্য দেশ’ অর্থাৎ যদি অগ্রহায়ণে বৃষ্টি হয় তবে দুর্ভিক্ষে রাজাকে ভিক্ষা করতে হবে। পৌষ মাসে বৃষ্টি হলে তুষ বিক্রি করেও টাকা হয়, আর মাঘের শেষ দিন বৃষ্টি হলে রাজার ভা-ার শস্যে পূর্ণ হয়। কিংবা ‘যত জ্বালে ব্যঞ্জন মিষ্ট/তত জ্বালে ভাত নষ্ট’ অর্থাৎ মিষ্টি যত জ্বালানো যাবে তত ভালো, আর ভাত যত জ্বাল দেয়া যাবে তত নষ্ট হবে।
খনা তার প্রবাদে মাঝে মাঝে প্রাচীন ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেছেন। শুভ-অশুভ দিনক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যতের কথা চিরন্তন ভাষায় বলেছেন। ‘যদি না হয় আগনে বৃষ্টি/তবে না হয় কাঁঠালের সৃষ্টি’ অর্থাৎ অগ্রহায়ণে বৃষ্টি না হলে কাঁঠালের ফলন ভালো হবে না।
কৃষিকাজে খনার বচনে অনেক নির্দেশনা আছে যা আধুনিক কৃষিবিজ্ঞানের সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ। ‘হাত বিশ করি ফাঁক/আম কাঁঠাল পুঁতে রাখ’ কিংবা ‘গাছগাছালি ঘন সবে না/গাছ হবে তার ফল হবে না’ কিংবা ‘খনা ডেকে বলে যান/ রোদে ধান ছায়ায় পান’ কিংবা ‘ষোল চাষে মুলা/ তার অর্ধেক তুলা/তার অর্ধেক ধান/ বিনা চাষে পান।’ গবাদিপশু নিয়ে খনা অনেক অনুভূতিপ্রবণ বচন রচনা করেছেন। ‘যে চাষা খায় পেট ভরে/গরুর পানে চায় না ফিরে/গরু না পায় ঘাস পানি/
ফলন নাই তার হয়রানি’ কিংবা ‘গরুর পিঠে তুললে হাত/ গিরস্তে কবু পায় না ভাত।’ প্রকৃতিবিষয়ক প্রবচনে তিনি মানুষের জন্য সাবধান বার্তা ঘোষণা করেছেনÑ ‘আলো হাওয়া বেঁধো না/রোগে ভোগে মরো না।’
বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের ‘ঊধৎষু ঃড় নবফ, ধহফ বধৎষু ঃড় ৎরংব, সধশবং ধ সধহ যবধষঃযু, বিধষঃযু ধহফ রিংব’ সেই বিখ্যাত উক্তির বহু আগে খনা লিখে গেছেনÑ ‘সকাল শোয় সকাল ওঠে/তার কড়ি না বৈদ্য লুটে’ অর্থাৎ যে আগে শয্যায় যায় এবং আগে শয্যা পরিত্যাগ করে তার জন্য ডাক্তারের প্রয়োজন হয় না। এবং সব সমালোচনার উত্তর আছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চালু হওয়া ‘উধুষরমযঃ ংধারহম ঃরসব’ পদ্ধতিও তার সমর্থক।
লেখাটি পদ্মা পাড়ের মানুষ থেকে নেওয়া
Friday, December 11, 2009
খনা কাহিনী - ২
'খনা' বাংলার লোকজীবন সম্পর্কে অনেক ভবিষ্যত বাণী করেছেন যা খনার বচন নামে পরিচিত। বচন গুলোতে আবহাওয়া , জ্যোতিষ ও ভু-তত্ব ভেদে শস্যের ক্ষয়ক্ষতি ও ফলন সম্পর্কে যে ধারণা দেয়া হয়েছে তার অনেকগুলোই বানীক সত্যের খুব কাছাকাছি। খনার উপদেশ গুলো দীর্ঘকাল বাংলার আবহাওয়া ও কৃষিকাজের দিকনির্দেশক হিসেবে আজও কাজ করছে।
খনা- নামটির সাথে যতটা পরিচিত বাংলার মানুষ ততটা অপরিচিত তার যাপিত জীবন সম্পর্কে। অনেকেই হয়ত জানেন না যে খনা ছিলেন একজন নারী। আ্যস্ট্রলজিতেও তার পারদর্শিতা ছিল কিংবদন্তিতুল্য। কিন্তু ধীরে ধীরে বচন রচয়িতা হিসেবে এক বিদুষী নারীতে পরিনত হন খনা। খনার আবির্ভাব সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা নেই তবে অনেকে বলেন ১২০০ খ্রীষ্টাব্দের মাঝামাঝি তাঁর আগমন ঘটেছিল। তাঁর ব্যাক্তিগত পরিচয়ও লোকসাহিত্য নির্ভর এবং সেক্ষেত্রে অনেক দ্বীমতও রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে এক কিংবদন্তি অনুযায়ী তাঁর নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাতের দেউলি গ্রামে। শোনা যায় তাঁর পিতার নাম ছিল অনাচার্য । জীবনের অনেক খানি সময় বাস করেন সে সময়কার চন্দ্রকেতু রাজার আশ্রম চন্দ্রপুরে।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অপর এক কিংবদন্তি অনুসারে খনা ছিলেন সিংহলরাজের কন্যা। ভক্ষনে জন্মগ্রহণ করায় তাঁর নাম রাখা হয় ক্ষনা বা খনা। তখন বিক্রমপুরের রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ বরাহপুত্র মিহিরের জন্ম লাভের পর গণনা করে দেখেনযে তাঁর আয়ু মাত্র এক বছর। তাই পুত্রকে তিনি একটি পাত্রে করে সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে দেন। পাত্রটি ভাসতে ভাসতে সিংহল দ্বীপে পৌঁছায় এবং লালন পালন শেষে সিংহল রাজা যুবক মিহিরকে খনার সাথে বিয়ে দেন। সেখানে ধীরে ধীরে মিহির ও খনা জ্যোতিষ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। এরপর মিহির সস্ত্রীক নিজভূমে তাঁর পিতার কাছে ফিরে আসেন এবং একসময় রাজা বিক্রমাদিত্যের সভাসদ হন এবং পিতার ন্যায় জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রতিপত্তি লাভ করেন। একদিন পিতা-পুত্র আকাশের তারা গণনায় সমস্যায় পড়েন। আমাদের বুদ্ধিমতী খনা সেই সমস্যার সমাধান করে রাজা বিক্রমাদিত্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এতে রাজসভায় প্রতিপত্তি হারানোর ভয়ে পিতার আদেশে মিহির খনার জীহ্বা কেটে দেন! এর কিছুকাল পরে খনার মৃত্য ঘটে। কথিত আছে খনার জীহ্বা কেটে নেয়ার জন্য তাঁর শাশুড়ির সাথে দ্বন্দই বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
খনার বচন বাংলার লোক সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যান্ত্রীক জীবনের চরম জটিলতা আর পাশ্চাত্যের দূষিত হাওয়া আমাদের ধীরে ধীরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নিজস্ব সংস্কৃতি অঙ্গন থেকে । ভুলে যাচ্ছি আমাদের কিংবদন্তিতুল্য কেবলমাত্র লোকের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে আসা এক বিদূষী নারী খনাকে, যিনি নিজের এক জীহ্বার বিনিময়ে নিজের কথা ছড়িয়ে দিয়েছেন বাংলার কোটি কোটি মানুষের জীহ্বায়। যুগ যুগ ধরে মানুষেরা খনার বচন প্রকাশ করে চলেছেন নিজের জীহ্বা দ্বারা!
লেখাটি বাঁধ ভাঙার আওয়াজ থেকে নেওয়া
খনা- নামটির সাথে যতটা পরিচিত বাংলার মানুষ ততটা অপরিচিত তার যাপিত জীবন সম্পর্কে। অনেকেই হয়ত জানেন না যে খনা ছিলেন একজন নারী। আ্যস্ট্রলজিতেও তার পারদর্শিতা ছিল কিংবদন্তিতুল্য। কিন্তু ধীরে ধীরে বচন রচয়িতা হিসেবে এক বিদুষী নারীতে পরিনত হন খনা। খনার আবির্ভাব সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা নেই তবে অনেকে বলেন ১২০০ খ্রীষ্টাব্দের মাঝামাঝি তাঁর আগমন ঘটেছিল। তাঁর ব্যাক্তিগত পরিচয়ও লোকসাহিত্য নির্ভর এবং সেক্ষেত্রে অনেক দ্বীমতও রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে এক কিংবদন্তি অনুযায়ী তাঁর নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাতের দেউলি গ্রামে। শোনা যায় তাঁর পিতার নাম ছিল অনাচার্য । জীবনের অনেক খানি সময় বাস করেন সে সময়কার চন্দ্রকেতু রাজার আশ্রম চন্দ্রপুরে।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অপর এক কিংবদন্তি অনুসারে খনা ছিলেন সিংহলরাজের কন্যা। ভক্ষনে জন্মগ্রহণ করায় তাঁর নাম রাখা হয় ক্ষনা বা খনা। তখন বিক্রমপুরের রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ বরাহপুত্র মিহিরের জন্ম লাভের পর গণনা করে দেখেনযে তাঁর আয়ু মাত্র এক বছর। তাই পুত্রকে তিনি একটি পাত্রে করে সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে দেন। পাত্রটি ভাসতে ভাসতে সিংহল দ্বীপে পৌঁছায় এবং লালন পালন শেষে সিংহল রাজা যুবক মিহিরকে খনার সাথে বিয়ে দেন। সেখানে ধীরে ধীরে মিহির ও খনা জ্যোতিষ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। এরপর মিহির সস্ত্রীক নিজভূমে তাঁর পিতার কাছে ফিরে আসেন এবং একসময় রাজা বিক্রমাদিত্যের সভাসদ হন এবং পিতার ন্যায় জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রতিপত্তি লাভ করেন। একদিন পিতা-পুত্র আকাশের তারা গণনায় সমস্যায় পড়েন। আমাদের বুদ্ধিমতী খনা সেই সমস্যার সমাধান করে রাজা বিক্রমাদিত্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এতে রাজসভায় প্রতিপত্তি হারানোর ভয়ে পিতার আদেশে মিহির খনার জীহ্বা কেটে দেন! এর কিছুকাল পরে খনার মৃত্য ঘটে। কথিত আছে খনার জীহ্বা কেটে নেয়ার জন্য তাঁর শাশুড়ির সাথে দ্বন্দই বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
খনার বচন বাংলার লোক সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যান্ত্রীক জীবনের চরম জটিলতা আর পাশ্চাত্যের দূষিত হাওয়া আমাদের ধীরে ধীরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নিজস্ব সংস্কৃতি অঙ্গন থেকে । ভুলে যাচ্ছি আমাদের কিংবদন্তিতুল্য কেবলমাত্র লোকের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে আসা এক বিদূষী নারী খনাকে, যিনি নিজের এক জীহ্বার বিনিময়ে নিজের কথা ছড়িয়ে দিয়েছেন বাংলার কোটি কোটি মানুষের জীহ্বায়। যুগ যুগ ধরে মানুষেরা খনার বচন প্রকাশ করে চলেছেন নিজের জীহ্বা দ্বারা!
লেখাটি বাঁধ ভাঙার আওয়াজ থেকে নেওয়া
12:34 PM
|
Labels: Life Story
Permalink 0
Read more>>
Labels: Life Story
Permalink 0
Read more>>
খনা কাহিনী - ১
খনা বা ক্ষণা কথিত আছে তার আসল নাম লীলাবতী আর্যা জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী নারীর যিনি বচন রচনার জন্যেই বেশি সমাদৃত, মূলত খনার ভবিষ্যতবাণীগুলোই খনার বচন নামে বহুল পরিচিত। মনে করা হয় ৮০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তার আবির্ভাব হয়েছিল। কিংবদন্তি অনুসারে তিনি বাস করতেন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিস পরগনা জেলার বারাসাতের দেউলিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম ছিন অনাচার্য। অন্য একটি কিংবদন্তি অনুসারে তিনি ছিলেন সিংহলরাজের কন্যা। বিক্রমপুরের রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজ সভার প্রখ্যাত জোতির্বিদ বরাহপুত্র মিহিরকে খনার স্বামীরূপে পাওয়া যায়।
খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া। আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত। অনেকের মতে খনা নাম্নী জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী বাঙালি নারীর রচনা এই ছড়া গুলো। তবে এ নিয়ে মতভেদ আছে। অজস্র খনার বচন যুগ যুগান্তর ধরে গ্রাম বাংলার জন জীবনের সাথে মিশে আছে। জনশ্রুতি আছে যে, খনার নিবাস ছিল চব্বিশ পরগণা র তৎকালীন বারাসাত মহকুমার দেউলি গ্রামে। এমনকি রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার নবরত্নের একজন বলে কথিত বরাহমিহির বা বররুচি এর পুত্র মিহির তার স্বামী ছিল বলেও কিংবদন্তী আছে। এই রচনা গুলো চার ভাগে বিভক্ত।কথিত আছে বরাহ তার পুত্রের জন্ম কোষ্ঠি গননা করে পুত্রের আয়ূ এক বছর দেখতে পেয়ে শিশু পুত্র মিহিরকে একটি পাত্রে করে সমুদ্র জলে ভাসিয়ে দেন। পাত্রটি ভাসতে ভাসতে সিংহল দ্বীপে পৌছলে সিংহলরাজ শিশুটিকে লালন পালন করেন এবং পরে কন্যা খনার সাথে বিয়ে দেন। খনা এবং মিহির দু'জনেই জ্যোতিষশাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন। মিহির একসময় বিক্রমাদিত্যের সভাসদ হন। একদিন পিতা বরাহ এবং পুত্র মিহির আকাশের তারা গণনায় সমস্যায় পরলে, খনা এ সমস্যার সমাধান দিয়ে রাজা বিক্রমাদিত্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। গণনা করে খনার দেওয়া পূর্বাভাস রাজ্যের কৃষকরা উপকৃত হতো বলে রাজা বিক্রমাদিত্য খনাকে দশম রত্ন হিসেবে আখ্যা দেন। রাজসভায় প্রতিপত্তি হারানোর ভয়ে প্রতিহিংসায় বরাহের আদেশে মিহির খনার জিহ্বা কেটে দেন। এর কিছুকাল পরে খনার মৃত্যু হয়।
•কৃষিকাজের প্রথা ও কুসংস্কার।
•কৃষিকাজ ফলিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান।
•আবহাওয়া জ্ঞান।
•শস্যের যত্ন সম্পর্কিত উপদেশ।
বরাহমিহির প্রাচীন ভারতের (আনুমানিক ৫০৫ - ৫৮৭) একজন বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং কবি। তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান ছাড়াও গণিতশাস্ত্র, পূর্তবিদ্যা, আবহবিদ্যা, এবং স্থাপত্যবিদ্যায় পণ্ডিত ছিলেন।
এই মনীষীর জন্ম ভারতের অবন্তিনগরে। রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার নবরত্নের অন্যতম হিসেবে তিনি স্বীকৃত। ভারতীয় পঞ্জিকার অন্যতম সংস্কারক ছিলেন তিনি। তিনিই বছর গণনার সময় বেশাখকে প্রথম মাস হিসেবে ধরার প্রচলন করেন। আগে চৈত্র এবং বৈশাখকে বসন্ত ঋতুর অন্তর্গত ধরা হতো। পৃথিবীর আকার এবং আকৃতি সম্বন্ধে তার সঠিক ধারণা ছিল। তার জন্ম ৫৮৭ ধরা হলেও কারও কারও মতে তা ৫৭৮।
তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
•পঞ্চসিদ্ধান্তিকা; ৫৫০ খ্রিস্টাব্দে রচিত হয়। পাঁচটা খন্ড নিয়ে গঠিত এই বইটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার বলে চিহ্নিত করা যেতে পারে। পাঁচটি খন্ড হচ্ছ: সূর্যসিদ্ধান্ত, রোমকসিদ্ধান্ত, পৌলিশসিদ্ধান্ত, পৈতামহসিদ্ধান্ত এবং বাশিষ্ঠসিদ্ধান্ত। আরব দার্শনিক আল খোয়ারিজমি সূর্যসিদ্ধান্ত দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আল জিবর ব আল মুকাবলা রচনা করেন বলে মনে করা হয়।
•বৃহৎসংহিতা; একটি প্রসিদ্ধ জ্যোতিষ গ্রন্থ যা পদ্য আকারে লিখা। এতে তিনি জ্যোতিষী দৃষ্টিকোণ থেকে বহু পাথরের বিবরণ এবং পাক-ভারতের ভৌগলিক তথ্য সন্নিবেশিত করেন। এছাড়াও এতে সূর্য ও চন্দ্রের গতি ও প্রভাব, আবহবিদ্যা, স্থাপত্য এবং পূর্তবিদ্যার নানা বিষয় প্রসঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচিত হয়েছে। এই বইয়েই তিনি ব্রজলেপ নামে একটি বস্তুর প্রস্তুতপ্রণালী ব্যাখ্যা করেছেন যা আধুনিককালের সিমেন্টের সমগোত্রীয় ছিল। সে সময় ভারতে বরাহমিহির উদ্ভাবিত এই ব্রজলেপ দিয়েই বড় বড় দালান কোঠার ইটের গাঁথুনি তৈরীতে ব্যবহৃত হতো।
এই লেখাটি উইকিপিডিয়া হতে নেওয়া।
খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া। আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত। অনেকের মতে খনা নাম্নী জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী বাঙালি নারীর রচনা এই ছড়া গুলো। তবে এ নিয়ে মতভেদ আছে। অজস্র খনার বচন যুগ যুগান্তর ধরে গ্রাম বাংলার জন জীবনের সাথে মিশে আছে। জনশ্রুতি আছে যে, খনার নিবাস ছিল চব্বিশ পরগণা র তৎকালীন বারাসাত মহকুমার দেউলি গ্রামে। এমনকি রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার নবরত্নের একজন বলে কথিত বরাহমিহির বা বররুচি এর পুত্র মিহির তার স্বামী ছিল বলেও কিংবদন্তী আছে। এই রচনা গুলো চার ভাগে বিভক্ত।কথিত আছে বরাহ তার পুত্রের জন্ম কোষ্ঠি গননা করে পুত্রের আয়ূ এক বছর দেখতে পেয়ে শিশু পুত্র মিহিরকে একটি পাত্রে করে সমুদ্র জলে ভাসিয়ে দেন। পাত্রটি ভাসতে ভাসতে সিংহল দ্বীপে পৌছলে সিংহলরাজ শিশুটিকে লালন পালন করেন এবং পরে কন্যা খনার সাথে বিয়ে দেন। খনা এবং মিহির দু'জনেই জ্যোতিষশাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন। মিহির একসময় বিক্রমাদিত্যের সভাসদ হন। একদিন পিতা বরাহ এবং পুত্র মিহির আকাশের তারা গণনায় সমস্যায় পরলে, খনা এ সমস্যার সমাধান দিয়ে রাজা বিক্রমাদিত্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। গণনা করে খনার দেওয়া পূর্বাভাস রাজ্যের কৃষকরা উপকৃত হতো বলে রাজা বিক্রমাদিত্য খনাকে দশম রত্ন হিসেবে আখ্যা দেন। রাজসভায় প্রতিপত্তি হারানোর ভয়ে প্রতিহিংসায় বরাহের আদেশে মিহির খনার জিহ্বা কেটে দেন। এর কিছুকাল পরে খনার মৃত্যু হয়।
•কৃষিকাজের প্রথা ও কুসংস্কার।
•কৃষিকাজ ফলিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান।
•আবহাওয়া জ্ঞান।
•শস্যের যত্ন সম্পর্কিত উপদেশ।
বরাহমিহির প্রাচীন ভারতের (আনুমানিক ৫০৫ - ৫৮৭) একজন বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং কবি। তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান ছাড়াও গণিতশাস্ত্র, পূর্তবিদ্যা, আবহবিদ্যা, এবং স্থাপত্যবিদ্যায় পণ্ডিত ছিলেন।
এই মনীষীর জন্ম ভারতের অবন্তিনগরে। রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার নবরত্নের অন্যতম হিসেবে তিনি স্বীকৃত। ভারতীয় পঞ্জিকার অন্যতম সংস্কারক ছিলেন তিনি। তিনিই বছর গণনার সময় বেশাখকে প্রথম মাস হিসেবে ধরার প্রচলন করেন। আগে চৈত্র এবং বৈশাখকে বসন্ত ঋতুর অন্তর্গত ধরা হতো। পৃথিবীর আকার এবং আকৃতি সম্বন্ধে তার সঠিক ধারণা ছিল। তার জন্ম ৫৮৭ ধরা হলেও কারও কারও মতে তা ৫৭৮।
তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
•পঞ্চসিদ্ধান্তিকা; ৫৫০ খ্রিস্টাব্দে রচিত হয়। পাঁচটা খন্ড নিয়ে গঠিত এই বইটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার বলে চিহ্নিত করা যেতে পারে। পাঁচটি খন্ড হচ্ছ: সূর্যসিদ্ধান্ত, রোমকসিদ্ধান্ত, পৌলিশসিদ্ধান্ত, পৈতামহসিদ্ধান্ত এবং বাশিষ্ঠসিদ্ধান্ত। আরব দার্শনিক আল খোয়ারিজমি সূর্যসিদ্ধান্ত দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আল জিবর ব আল মুকাবলা রচনা করেন বলে মনে করা হয়।
•বৃহৎসংহিতা; একটি প্রসিদ্ধ জ্যোতিষ গ্রন্থ যা পদ্য আকারে লিখা। এতে তিনি জ্যোতিষী দৃষ্টিকোণ থেকে বহু পাথরের বিবরণ এবং পাক-ভারতের ভৌগলিক তথ্য সন্নিবেশিত করেন। এছাড়াও এতে সূর্য ও চন্দ্রের গতি ও প্রভাব, আবহবিদ্যা, স্থাপত্য এবং পূর্তবিদ্যার নানা বিষয় প্রসঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচিত হয়েছে। এই বইয়েই তিনি ব্রজলেপ নামে একটি বস্তুর প্রস্তুতপ্রণালী ব্যাখ্যা করেছেন যা আধুনিককালের সিমেন্টের সমগোত্রীয় ছিল। সে সময় ভারতে বরাহমিহির উদ্ভাবিত এই ব্রজলেপ দিয়েই বড় বড় দালান কোঠার ইটের গাঁথুনি তৈরীতে ব্যবহৃত হতো।
এই লেখাটি উইকিপিডিয়া হতে নেওয়া।
12:26 PM
|
Labels: Life Story
Permalink 0
Read more>>
Labels: Life Story
Permalink 0
Read more>>
Monday, October 19, 2009
খনার বচন
খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া। আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত। অনেকের মতে খনা নাম্নী জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী বাঙালি নারীর রচনা এই ছড়া গুলো। তবে এ নিয়ে মতভেদ আছে। অজস্র খনার বচন যুগ যুগান্তর ধরে গ্রাম বাংলার জন জীবনের সাথে মিশে আছে।
১.
চাষে মুলা তার
অর্ধেক তুলা তার
অর্ধেক ধান
বিনা চাষে পান
২.
বিপদে পড় নহে ভয়
অভিজ্ঞতায় হবে জয়
৩.
উত্তর দুয়ারি ঘরের রাজা
দক্ষিণ দুয়ারি তাহার প্রজা।
পূর্ব দুয়ারির খাজনা নাই
পশ্চিম দুয়ারির মুখে ছাই।।
৪.
কপালে নাই ঘি,
ঠকঠকালে হবে কি!
৫.
নিজের বেলায় আটিঁগাটি,
পরের বেলায় চিমটি কাটি।
৬.
পুকুরে তে পানি নাই, পাতা কেনো ভাসে
যার কথা মনে করি সেই কেনো হাসে ?
৭.
ভাত দেবার মুরোদ নাই,
কিল দেবার গোসাঁই।
৮.
নদীর জল ঘোলাও ভালো,
জাতের মেয়ে কালোও ভালো
৯.
খাঁদা নাকে আবার নথ !
১০.
থাক দুখ পিতে,(পিত্তে)
ঢালমু দুখ মাঘ মাসের শীতে।
১১.
কি কর শ্বশুর মিছে খেটে
ফাল্গুনে এঁটে পোত কেটে
বেড়ে যাবে ঝাড়কি ঝাড়
কলা বইতে ভাংগে ঘাড়।
১২.
ভাদরে করে কলা রোপন
স্ববংশে মরিল রাবণ।
১৩.
গো নারিকেল নেড়ে রো
আমা টুকরা কাঁঠাল ভো।
১৪.
সুপারীতে গোবর, বাশে মাটি
অফলা নারিকেল শিকর কাটি
১৫.
খনা বলে শুনে যাও
নারিকেল মুলে চিটা দাও
গাছ হয় তাজা মোটা
তাড়াতাড়ি ধরে গোটা।
১৬.
ডাক ছেড়ে বলে রাবণ
কলা রোবে আষাঢ় শ্রাবণ।
১৭.
পূর্ব আষাঢ়ে দক্ষিণা বয়
সেই বছর বন্যা হয়।
১৮.
মংগলে উষা বুধে পা
যথা ইচ্ছা তথা যা।
১৯.
পুত্র ভাগ্যে যশ
কন্যা ভাগ্যে লক্ষী
২০.
উঠান ভরা লাউ শশা
ঘরে তার লক্ষীর দশা
২১.
বামুন বাদল বান
দক্ষিণা পেলেই মান।
২২.
বেঙ ডাকে ঘহন ঘন
শীঘ্র হবে বৃষ্টি জান।
২৩.
আউশ ধানের চাষ
লাগে তিন মাস।
২৪.
যদি বর্ষে গাল্গুনে
চিনা কাউন দ্বিগুনে।
২৫.
যদি হয় চৈতে বৃষ্টি
তবে হবে ধানের সৃষ্টি।
২৬.
চালায় চালায় কুমুড় পাতা
লক্ষ্মী বলেন আছি তথা।
২৭.
আখ আদা রুই
এই তিন চৈতে রুই।
২৮.
দাতার নারিকেল, বখিলের বাঁশ
কমে না বাড়ে বারো মাস।
২৯.
সোমে ও বুধে না দিও হাত
ধার করিয়া খাইও ভাত।
৩০.
জৈষ্ঠতে তারা ফুটে
তবে জানবে বর্ষা বটে।
৩১.
বাঁশের ধারে হলুদ দিলে
খনা বলে দ্বিগুণ বাড়ে।
৩২.
গাই পালে মেয়ে
দুধ পড়ে বেয়ে।
৩৩.
শুনরে বাপু চাষার বেটা
মাটির মধ্যে বেলে যেটা
তাতে যদি বুনিস পটল
তাতে তোর আশার সফল।
৩৪.
মাঘ মাসে বর্ষে দেবা
রাজ্য ছেড়ে প্রজার সেবা।
৩৫.
চৈতের কুয়া আমের ক্ষয়
তাল তেঁতুলের কিবা হয়।
অর্থ-কুয়াশায় আমের বোল নষ্ট হয়ে যায়
৩৬.
আমে ধান
তেঁতুলে বান।
অর্থ- আম বেশি ফললে ধান বেশি জন্মে। তেঁতুল বেশি ফললে ঝড় বন্যা হয়।
৩৭.
হইবো পুতে ডাকবো বাপ
তয় পুরবো মনর থাপ।
৩৮.
পারেনা .ল ফালাইতে
উইঠা থাকে বিয়ান রাইতে।
৩৯.
যদি বর্ষে মাঘের শেষ
ধন্যি রাজা পুণ্যি দেশ
৪০.
চৈত্রে দিয়া মাটি
বৈশাখে কর পরিপাটি।
৪১.
সূর্যের চেয়ে বালি গরম!!
নদীর চেয়ে প্যাক ঠান্ডা!!
৪২.
সমানে সমানে দোস্তি
সমানে সমানে কুস্তি।
৪৩.
হোলা গোশশা অইলে বাশশা,
মাইয়া গোশশা অইলে বেইশশা
৪৪.
মেয়ে নষ্ট ঘাটে,
ছেলে নষ্ট হাটে।
৪৫.
আল্লায় দিয়া ধন দেখে মন,
কাইড়া নিতে কতক্ষণ।
৪৬.
যদি থাকে বন্ধুরে মন
গাং সাঁতরাইতে কতক্ষন।
৪৭.
কাল ধানের ধলা পিঠা,
মা'র চেয়ে মাসি মিঠা।
৪৮.
পরের বাড়ির পিঠা
খাইতে বড় ই মিঠা।
৪৯.
ঘরের কোনে মরিচ গাছ
লাল মরিচ ধরে,
তোমার কথা মনে হলে
চোখের পানি পড়ে!
৫০.
সোল বোয়ালের পোনা
যার যারটা তার তার কাছে সোনা।
৫১.
ছায়া ভালো ছাতার তল,
বল ভালো নিজের বল।
(বিয়াই'র পুত নিয়া সাত পুত গুণতে নাই।)
৫২.
যা করিবে বান্দা তা-ই পাইবে।
সুই চুরি করিলে কুড়াল হারাইবে।
৫৩.
খালি পেটে পানি খায়
যার যার বুঝে খায়।
৫৪.
তেলা মাথায় ঢালো তেল,
শুকনো মাথায় ভাঙ্গ বেল।
৫৫.
চৈত্রে চালিতা,
বৈশাখে নালিতা,
আষাড়ে.........
ভাদ্রে তালের পিঠা।
আর্শ্বিনে ওল,
কার্তিকে কৈয়ের ঝুল
৫৬.
মিললে মেলা।
না মিললে একলা একলা ভালা!
৫৭.
সাত পুরুষে কুমাড়ের ঝি,
সরা দেইখা কয়, এইটা কি?
৫৮.
না পাইয়া পাইছে ধন;
বাপে পুতে কীর্তন।
৫৯.
কাচায় না নোয়ালে বাশ,
পাকলে করে ঠাস ঠাস!
৬০.
যুগরে খাইছে ভূতে
বাপরে মারে পুতে।
৬১.
দশে মিলে করি কাজ
হারি জিতি নাহি লাজ।
৬২.
যাও পাখি বলো তারে
সে যেন ভুলেনা মোরে।
৬৩.
ফুল তুলিয়া রুমাল দিলাম যতন করি রাখিও।
আমার কথা মনে ফইল্লে রুমাল খুলি দেখিও।
৬৪.
একে তে নাচুনী বুড়ি,
তার উপর ঢোলের বারি
৬৫.
চোরের মার বড় গলা
লাফ দিয়ে খায় গাছের কলা
৬৬.
ভাই বড়ো ধন, রক্তের বাঁধন
যদি ও পৃথক হয়, নারীর কারন।
৬৭.
জ্যৈষ্ঠে শুকো আষাঢ়ে ধারা।
শস্যের ভার না সহে ধরা।
৬৮.
যদি হয় সুজন
এক পিড়িতে নয় জন।
যদি হয় কুজন
নয় পিড়িতে নয় জন
*(যদি হয় সুজন,
তেতুল পাতায় ন'জন।)
৬৯.
"হাতিরও পিছলে পাও।
সুজনেরও ডুবে নাও।"
৭০.
গাঙ দেখলে মুত আসে
নাঙ দেখলে হাস আসে (নাঙ মানে - স্বামী)
৭১.
ক্ষেত আর পুত।
যত্ন বিনে যমদূত।।
৭২.
গরু ছাগলের মুখে বিষ।
চারা না খায় রাখিস দিশ ।।
বন্যা, মড়ক, বৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি
৭৩.
আকাশে কোদালীর বাউ।
ওগো শ্বশুড় মাঠে যাও।।
মাঠে গিয়া বাঁধো আলি।
বৃষ্টি হবে আজি কালি।।
৭৪.
যদি ঝরে কাত্তি।
সোনা রাত্তি রাত্তি।।
৭৫.
আষাঢ়ের পানি।
তলে দিয়া গেলে সার।
উপরে দিয়া গেলে ক্ষার।।
হল (লাঙ্গল চালনা)
৭৬.
গাঁ গড়ানে ঘন পা।
যেমন মা তেমন ছা।।
থেকে বলদ না বয় হাল,
তার দু:খ সর্ব্বকাল।
গবাদি
৭৭.
যে চাষা খায় পেট ভরে।
গরুর পানে চায় না ফিরে।
গরু না পায় ঘাস পানি।
ফলন নাই তার হয়রানি।।
৭৮.
গরুর পিঠে তুললে হাত।
গিরস্থে কভু পায় না ভাত।।
গাই দিয়া বায় হাল
দু:খ তার চিরকাল।
ধান্যাদি
৭৯.
দিন থাকতে বাঁধে আল।
তবে খায় তিন শাল।।
বারো পুত তেরো নাতি।
তবে করো বোরো খেতি।।
রবি শস্যাদি
৮০.
মেঘ করে রাত্রে হয় জল।
তবে মাঠে যাওয়াই বিফল।।
৮১.
যদি থাকে টাকা করবার গোঁ।
চৈত্র মাসে ভুট্টা দিয়ে রো।।
৮২.
হলে ফুল কাট শনা।
পাট পাকিলে লাভ দ্বিগুণা।।
৮৩.
সকাল শোয় সকাল ওঠে
তার কড়ি না বৈদ্য লুটে
৮৪.
আলো হাওয়া বেঁধো না
রোগে ভোগে মরো না।
৮৫.
যে চাষা খায় পেট ভরে
গরুর পানে চায় না ফিরে
গরু না পায় ঘাস পানি
ফলন নাই তার হয়রানি
৮৬.
খনা ডেকে বলে যান
রোদে ধান ছায়ায় পান
৮৭.
গাছগাছালি ঘন সবে না
গাছ হবে তার ফল হবে না
৮৮.
হাত বিশ করি ফাঁক
আম কাঁঠাল পুঁতে রাখ
৮৯.
যদি না হয় আগনে বৃষ্টি
তবে না হয় কাঁঠালের সৃষ্টি
৯০.
যত জ্বালে ব্যঞ্জন মিষ্ট
তত জ্বালে ভাত নষ্ট
৯১.
যে না শোনে খনার বচন
সংসারে তার চির পচন৷
৯২.
শোনরে বাপু চাষার পো
সুপারী বাগে মান্দার রো৷
মান্দার পাতা পচলে গোড়ায়
ফড়ফড়াইয়া ফল বাড়ায়৷
৯৩.
চাষী আর চষা মাটি
এ দু'য়ে হয় দেশ খাঁটি।
৯৪.
গাছে গাছে আগুন জ্বলে
বৃষ্টি হবে খনায় বলে।
৯৫.
জ্যৈষ্ঠে খরা, আষাঢ়ে ভরা
শস্যের ভার সহে না ধরা।
৯৬.
আষাঢ় মাসে বান্ধে আইল
তবে খায় বহু শাইল।
৯৭.
আষাঢ়ে পনের শ্রাবণে পুরো
ধান লাগাও যত পারো।
৯৮.
তিন শাওনে পান
এক আশ্বিনে ধান।
৯৯.
পটল বুনলে ফাগুন
ফলন বাড়ে দ্বিগুণে।
১০০.
ফাগুনে আগুন, চৈতে মাট
বাঁশ বলে শীঘ্র উঠি।
১০১.
ভাদ্রের চারি, আশ্বিনের চারি
কলাই করি যত পারি।
১০২.
লাঙ্গলে না খুঁড়লে মাটি, মই না দিলে পরিপাটি
ফসল হয় না কান্নাকাটি।
১০৩.
সবলা গরু সুজন পুত
রাখতে পারে খেতের জুত।
১০৪.
গরু-জরু-ক্ষেত-পুতা
চাষীর বেটার মূল সুতা।
১০৫.
সবল গরু, গভীর চাষ
তাতে পুরে চাষার আশ।
১০৬.
শোন শোন চাষি ভাই
সার না দিলে ফসল নাই।
১০৭.
হালে নড়বড়, দুধে পানি
লক্ষ্মী বলে চাড়লাম আমি।
১০৮.
রোদে ধান, ছায়ায় পান।
১০৯.
আগে বাঁধবে আইল
তবে রুবে শাইল।
১১০.
গাছ-গাছালি ঘন রোবে না
গাছ হবে তাতে ফল হবে না।
১১১.
খরা ভুয়ে ঢালবি জল
সারাবছর পাবি ফল।
১১২.
ডাঙ্গা নিড়ান বান্ধন আলি
তাতে দিও নানা শালি।
১১৩.
কাঁচা রোপা শুকায়
ভুঁইয়ে ধান ভুঁইয়ে লুটায়।
১১৪.
বার পুত, তের নাতি
তবে কর কুশার ক্ষেতি।
১১৫.
তাল বাড়ে ঝোপে
খেজুর বাড়ে কোপে।
১১৬.
গাজর, গন্ধি, সুরী
তিন বোধে দূরী।
১১৭.
খনা বলে শোনভাই
তুলায় তুলা অধিক পাই।
১১৮.
ঘন সরিষা পাতলা রাই
নেংগে নেংগে কার্পাস পাই।
১১৯.
বারো মাসে বারো ফল
না খেলে যায় রসাতল।
১২০.
ফল খেয়ে জল খায়
জম বলে আয় আয়।
১২১.
কলা-রুয়ে কেটো না পাত,
তাতে কাপড় তাতেই ভাত।
♣♣♣♣♣ ☼☼☼☼☼☼☼ ☺☺☺☺☺☺ ♠♠♠♠♠♠♠♠
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে প্রবাদ-প্রবচনের ব্যবহার ও গুরুত্ব অপরিসীম। অধিকাংশের-ই জনক খনা। এখানে আমার সংগ্রহীত কিছু খনার বচন রেখে দিলাম। আপনাদের যদি এর বাইরে আরও জানা থাকে তাহলে Comment box এ Pasteকরুন। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে হয়ে উঠতে পারে খনার বচনের অসাধারণ আর্কাইভ।
১.
চাষে মুলা তার
অর্ধেক তুলা তার
অর্ধেক ধান
বিনা চাষে পান
২.
বিপদে পড় নহে ভয়
অভিজ্ঞতায় হবে জয়
৩.
উত্তর দুয়ারি ঘরের রাজা
দক্ষিণ দুয়ারি তাহার প্রজা।
পূর্ব দুয়ারির খাজনা নাই
পশ্চিম দুয়ারির মুখে ছাই।।
৪.
কপালে নাই ঘি,
ঠকঠকালে হবে কি!
৫.
নিজের বেলায় আটিঁগাটি,
পরের বেলায় চিমটি কাটি।
৬.
পুকুরে তে পানি নাই, পাতা কেনো ভাসে
যার কথা মনে করি সেই কেনো হাসে ?
৭.
ভাত দেবার মুরোদ নাই,
কিল দেবার গোসাঁই।
৮.
নদীর জল ঘোলাও ভালো,
জাতের মেয়ে কালোও ভালো
৯.
খাঁদা নাকে আবার নথ !
১০.
থাক দুখ পিতে,(পিত্তে)
ঢালমু দুখ মাঘ মাসের শীতে।
১১.
কি কর শ্বশুর মিছে খেটে
ফাল্গুনে এঁটে পোত কেটে
বেড়ে যাবে ঝাড়কি ঝাড়
কলা বইতে ভাংগে ঘাড়।
১২.
ভাদরে করে কলা রোপন
স্ববংশে মরিল রাবণ।
১৩.
গো নারিকেল নেড়ে রো
আমা টুকরা কাঁঠাল ভো।
১৪.
সুপারীতে গোবর, বাশে মাটি
অফলা নারিকেল শিকর কাটি
১৫.
খনা বলে শুনে যাও
নারিকেল মুলে চিটা দাও
গাছ হয় তাজা মোটা
তাড়াতাড়ি ধরে গোটা।
১৬.
ডাক ছেড়ে বলে রাবণ
কলা রোবে আষাঢ় শ্রাবণ।
১৭.
পূর্ব আষাঢ়ে দক্ষিণা বয়
সেই বছর বন্যা হয়।
১৮.
মংগলে উষা বুধে পা
যথা ইচ্ছা তথা যা।
১৯.
পুত্র ভাগ্যে যশ
কন্যা ভাগ্যে লক্ষী
২০.
উঠান ভরা লাউ শশা
ঘরে তার লক্ষীর দশা
২১.
বামুন বাদল বান
দক্ষিণা পেলেই মান।
২২.
বেঙ ডাকে ঘহন ঘন
শীঘ্র হবে বৃষ্টি জান।
২৩.
আউশ ধানের চাষ
লাগে তিন মাস।
২৪.
যদি বর্ষে গাল্গুনে
চিনা কাউন দ্বিগুনে।
২৫.
যদি হয় চৈতে বৃষ্টি
তবে হবে ধানের সৃষ্টি।
২৬.
চালায় চালায় কুমুড় পাতা
লক্ষ্মী বলেন আছি তথা।
২৭.
আখ আদা রুই
এই তিন চৈতে রুই।
২৮.
দাতার নারিকেল, বখিলের বাঁশ
কমে না বাড়ে বারো মাস।
২৯.
সোমে ও বুধে না দিও হাত
ধার করিয়া খাইও ভাত।
৩০.
জৈষ্ঠতে তারা ফুটে
তবে জানবে বর্ষা বটে।
৩১.
বাঁশের ধারে হলুদ দিলে
খনা বলে দ্বিগুণ বাড়ে।
৩২.
গাই পালে মেয়ে
দুধ পড়ে বেয়ে।
৩৩.
শুনরে বাপু চাষার বেটা
মাটির মধ্যে বেলে যেটা
তাতে যদি বুনিস পটল
তাতে তোর আশার সফল।
৩৪.
মাঘ মাসে বর্ষে দেবা
রাজ্য ছেড়ে প্রজার সেবা।
৩৫.
চৈতের কুয়া আমের ক্ষয়
তাল তেঁতুলের কিবা হয়।
অর্থ-কুয়াশায় আমের বোল নষ্ট হয়ে যায়
৩৬.
আমে ধান
তেঁতুলে বান।
অর্থ- আম বেশি ফললে ধান বেশি জন্মে। তেঁতুল বেশি ফললে ঝড় বন্যা হয়।
৩৭.
হইবো পুতে ডাকবো বাপ
তয় পুরবো মনর থাপ।
৩৮.
পারেনা .ল ফালাইতে
উইঠা থাকে বিয়ান রাইতে।
৩৯.
যদি বর্ষে মাঘের শেষ
ধন্যি রাজা পুণ্যি দেশ
৪০.
চৈত্রে দিয়া মাটি
বৈশাখে কর পরিপাটি।
৪১.
সূর্যের চেয়ে বালি গরম!!
নদীর চেয়ে প্যাক ঠান্ডা!!
৪২.
সমানে সমানে দোস্তি
সমানে সমানে কুস্তি।
৪৩.
হোলা গোশশা অইলে বাশশা,
মাইয়া গোশশা অইলে বেইশশা
৪৪.
মেয়ে নষ্ট ঘাটে,
ছেলে নষ্ট হাটে।
৪৫.
আল্লায় দিয়া ধন দেখে মন,
কাইড়া নিতে কতক্ষণ।
৪৬.
যদি থাকে বন্ধুরে মন
গাং সাঁতরাইতে কতক্ষন।
৪৭.
কাল ধানের ধলা পিঠা,
মা'র চেয়ে মাসি মিঠা।
৪৮.
পরের বাড়ির পিঠা
খাইতে বড় ই মিঠা।
৪৯.
ঘরের কোনে মরিচ গাছ
লাল মরিচ ধরে,
তোমার কথা মনে হলে
চোখের পানি পড়ে!
৫০.
সোল বোয়ালের পোনা
যার যারটা তার তার কাছে সোনা।
৫১.
ছায়া ভালো ছাতার তল,
বল ভালো নিজের বল।
(বিয়াই'র পুত নিয়া সাত পুত গুণতে নাই।)
৫২.
যা করিবে বান্দা তা-ই পাইবে।
সুই চুরি করিলে কুড়াল হারাইবে।
৫৩.
খালি পেটে পানি খায়
যার যার বুঝে খায়।
৫৪.
তেলা মাথায় ঢালো তেল,
শুকনো মাথায় ভাঙ্গ বেল।
৫৫.
চৈত্রে চালিতা,
বৈশাখে নালিতা,
আষাড়ে.........
ভাদ্রে তালের পিঠা।
আর্শ্বিনে ওল,
কার্তিকে কৈয়ের ঝুল
৫৬.
মিললে মেলা।
না মিললে একলা একলা ভালা!
৫৭.
সাত পুরুষে কুমাড়ের ঝি,
সরা দেইখা কয়, এইটা কি?
৫৮.
না পাইয়া পাইছে ধন;
বাপে পুতে কীর্তন।
৫৯.
কাচায় না নোয়ালে বাশ,
পাকলে করে ঠাস ঠাস!
৬০.
যুগরে খাইছে ভূতে
বাপরে মারে পুতে।
৬১.
দশে মিলে করি কাজ
হারি জিতি নাহি লাজ।
৬২.
যাও পাখি বলো তারে
সে যেন ভুলেনা মোরে।
৬৩.
ফুল তুলিয়া রুমাল দিলাম যতন করি রাখিও।
আমার কথা মনে ফইল্লে রুমাল খুলি দেখিও।
৬৪.
একে তে নাচুনী বুড়ি,
তার উপর ঢোলের বারি
৬৫.
চোরের মার বড় গলা
লাফ দিয়ে খায় গাছের কলা
৬৬.
ভাই বড়ো ধন, রক্তের বাঁধন
যদি ও পৃথক হয়, নারীর কারন।
৬৭.
জ্যৈষ্ঠে শুকো আষাঢ়ে ধারা।
শস্যের ভার না সহে ধরা।
৬৮.
যদি হয় সুজন
এক পিড়িতে নয় জন।
যদি হয় কুজন
নয় পিড়িতে নয় জন
*(যদি হয় সুজন,
তেতুল পাতায় ন'জন।)
৬৯.
"হাতিরও পিছলে পাও।
সুজনেরও ডুবে নাও।"
৭০.
গাঙ দেখলে মুত আসে
নাঙ দেখলে হাস আসে (নাঙ মানে - স্বামী)
৭১.
ক্ষেত আর পুত।
যত্ন বিনে যমদূত।।
৭২.
গরু ছাগলের মুখে বিষ।
চারা না খায় রাখিস দিশ ।।
বন্যা, মড়ক, বৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি
৭৩.
আকাশে কোদালীর বাউ।
ওগো শ্বশুড় মাঠে যাও।।
মাঠে গিয়া বাঁধো আলি।
বৃষ্টি হবে আজি কালি।।
৭৪.
যদি ঝরে কাত্তি।
সোনা রাত্তি রাত্তি।।
৭৫.
আষাঢ়ের পানি।
তলে দিয়া গেলে সার।
উপরে দিয়া গেলে ক্ষার।।
হল (লাঙ্গল চালনা)
৭৬.
গাঁ গড়ানে ঘন পা।
যেমন মা তেমন ছা।।
থেকে বলদ না বয় হাল,
তার দু:খ সর্ব্বকাল।
গবাদি
৭৭.
যে চাষা খায় পেট ভরে।
গরুর পানে চায় না ফিরে।
গরু না পায় ঘাস পানি।
ফলন নাই তার হয়রানি।।
৭৮.
গরুর পিঠে তুললে হাত।
গিরস্থে কভু পায় না ভাত।।
গাই দিয়া বায় হাল
দু:খ তার চিরকাল।
ধান্যাদি
৭৯.
দিন থাকতে বাঁধে আল।
তবে খায় তিন শাল।।
বারো পুত তেরো নাতি।
তবে করো বোরো খেতি।।
রবি শস্যাদি
৮০.
মেঘ করে রাত্রে হয় জল।
তবে মাঠে যাওয়াই বিফল।।
৮১.
যদি থাকে টাকা করবার গোঁ।
চৈত্র মাসে ভুট্টা দিয়ে রো।।
৮২.
হলে ফুল কাট শনা।
পাট পাকিলে লাভ দ্বিগুণা।।
৮৩.
সকাল শোয় সকাল ওঠে
তার কড়ি না বৈদ্য লুটে
৮৪.
আলো হাওয়া বেঁধো না
রোগে ভোগে মরো না।
৮৫.
যে চাষা খায় পেট ভরে
গরুর পানে চায় না ফিরে
গরু না পায় ঘাস পানি
ফলন নাই তার হয়রানি
৮৬.
খনা ডেকে বলে যান
রোদে ধান ছায়ায় পান
৮৭.
গাছগাছালি ঘন সবে না
গাছ হবে তার ফল হবে না
৮৮.
হাত বিশ করি ফাঁক
আম কাঁঠাল পুঁতে রাখ
৮৯.
যদি না হয় আগনে বৃষ্টি
তবে না হয় কাঁঠালের সৃষ্টি
৯০.
যত জ্বালে ব্যঞ্জন মিষ্ট
তত জ্বালে ভাত নষ্ট
৯১.
যে না শোনে খনার বচন
সংসারে তার চির পচন৷
৯২.
শোনরে বাপু চাষার পো
সুপারী বাগে মান্দার রো৷
মান্দার পাতা পচলে গোড়ায়
ফড়ফড়াইয়া ফল বাড়ায়৷
৯৩.
চাষী আর চষা মাটি
এ দু'য়ে হয় দেশ খাঁটি।
৯৪.
গাছে গাছে আগুন জ্বলে
বৃষ্টি হবে খনায় বলে।
৯৫.
জ্যৈষ্ঠে খরা, আষাঢ়ে ভরা
শস্যের ভার সহে না ধরা।
৯৬.
আষাঢ় মাসে বান্ধে আইল
তবে খায় বহু শাইল।
৯৭.
আষাঢ়ে পনের শ্রাবণে পুরো
ধান লাগাও যত পারো।
৯৮.
তিন শাওনে পান
এক আশ্বিনে ধান।
৯৯.
পটল বুনলে ফাগুন
ফলন বাড়ে দ্বিগুণে।
১০০.
ফাগুনে আগুন, চৈতে মাট
বাঁশ বলে শীঘ্র উঠি।
১০১.
ভাদ্রের চারি, আশ্বিনের চারি
কলাই করি যত পারি।
১০২.
লাঙ্গলে না খুঁড়লে মাটি, মই না দিলে পরিপাটি
ফসল হয় না কান্নাকাটি।
১০৩.
সবলা গরু সুজন পুত
রাখতে পারে খেতের জুত।
১০৪.
গরু-জরু-ক্ষেত-পুতা
চাষীর বেটার মূল সুতা।
১০৫.
সবল গরু, গভীর চাষ
তাতে পুরে চাষার আশ।
১০৬.
শোন শোন চাষি ভাই
সার না দিলে ফসল নাই।
১০৭.
হালে নড়বড়, দুধে পানি
লক্ষ্মী বলে চাড়লাম আমি।
১০৮.
রোদে ধান, ছায়ায় পান।
১০৯.
আগে বাঁধবে আইল
তবে রুবে শাইল।
১১০.
গাছ-গাছালি ঘন রোবে না
গাছ হবে তাতে ফল হবে না।
১১১.
খরা ভুয়ে ঢালবি জল
সারাবছর পাবি ফল।
১১২.
ডাঙ্গা নিড়ান বান্ধন আলি
তাতে দিও নানা শালি।
১১৩.
কাঁচা রোপা শুকায়
ভুঁইয়ে ধান ভুঁইয়ে লুটায়।
১১৪.
বার পুত, তের নাতি
তবে কর কুশার ক্ষেতি।
১১৫.
তাল বাড়ে ঝোপে
খেজুর বাড়ে কোপে।
১১৬.
গাজর, গন্ধি, সুরী
তিন বোধে দূরী।
১১৭.
খনা বলে শোনভাই
তুলায় তুলা অধিক পাই।
১১৮.
ঘন সরিষা পাতলা রাই
নেংগে নেংগে কার্পাস পাই।
১১৯.
বারো মাসে বারো ফল
না খেলে যায় রসাতল।
১২০.
ফল খেয়ে জল খায়
জম বলে আয় আয়।
১২১.
কলা-রুয়ে কেটো না পাত,
তাতে কাপড় তাতেই ভাত।
♣♣♣♣♣ ☼☼☼☼☼☼☼ ☺☺☺☺☺☺ ♠♠♠♠♠♠♠♠
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে প্রবাদ-প্রবচনের ব্যবহার ও গুরুত্ব অপরিসীম। অধিকাংশের-ই জনক খনা। এখানে আমার সংগ্রহীত কিছু খনার বচন রেখে দিলাম। আপনাদের যদি এর বাইরে আরও জানা থাকে তাহলে Comment box এ Pasteকরুন। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে হয়ে উঠতে পারে খনার বচনের অসাধারণ আর্কাইভ।
4:35 AM
|
Labels: Khona’s Speech
Permalink 0
Read more>>
Labels: Khona’s Speech
Permalink 0
Read more>>
Subscribe to:
Posts (Atom)

